জানাগেছে, অভাবের সংসারের দেনা মেটাতে ঠিকাদারের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা দাদন নিয়ে চলতি মাসের ১১ তারিখ রায়গঞ্জ থানার শীতগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বড়ই গ্রামের বাসিন্দা ঋতু মুশহর (৫৫) গুজরাটের আমেদাবাদ শহরে শ্রমিকের কাজ করতে যান। ১৮ তারিখ নাগাদ পরিবারের কাছে খবর আসে ঋতু মুশহর নাকি পাগোল হয়ে গেছে। পরিবারের লোকেরা ঋতুকে বাড়ি ফেরত পাঠানোর দাবী জানায়। কিন্তু ঠিকাদারের লোক দাদনের টাকা ফেরত দিলেই ঋতুকে ট্রেনে তুলে দেওয়া হবে বলে জানায়। যার ফলে এই হত-দরিদ্র পরিবার শীতগ্রাম এলাকায় হন্যে হয়ে ঘুরে মহাজনের কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা জোগার করে ঠিকাদার আনাজুল মহম্মদের কাছে মঙ্গলবার বিকালে পৌছে দেয়। আনাজুল রাতেই ঋতুকে ফিরতি ট্রেনে চাপানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে বারবার বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার দুপুরে গুজরাট থেকে ফোন আসে ঋতু মুশহর গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ঋতুর সাথে থাকা ঠিকাদারের লোক ললিত ঋষি ঋতুর পাশের গ্রাম কাশিমপুরের বাসিন্দার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলেও তিনি কথা বলতে চাননি ঋতুর পরিবারের সাথে। কোনো রাস্তা না পেয়ে যখন দিশেহারা ওই আদিবাসী হিন্দু পরিবার, তখন পাশে দাঁড়ায় এলাকার মুসলমান সম্প্রদায়ের এক যুবক ক্ষুদ্র ইলেকট্রিক সরঞ্জামের দোকানদার কবীর আলী। মানবিক ভাবে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে কবীর ওই পরিবারকে নিয়ে শুক্রবার হাজির হন রায়গঞ্জ থানায়। সেখানে প্রথমে আশাহত হলেও পরবর্তীতে আইসি র সহযোগিতার আশ্বাষ পায় পরিবার।
ঋতু মুশহরের স্ত্রী ওমনি দেবী তার প্রতিবন্ধী বড় পুত্র সন্তান উপাসু ঋষি ও ছট ছেলে বিশু ঋষিকে নিয়ে থানার দারস্থ হয়েছেন।
এবিষয়ে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ান কবীর আলী জানায়, তিনি ঘটনাটি শুনতে পান এরপর ওই পরিবারের পাশে দাড়ায়। ন্যায় বিচারের আশায় পরিবারকে নিয়ে রায়গঞ্জ থানার দ্বারস্থ হয়েছেন।